>>>>>>>>> তেল বা গ্যাস নয় আগামীতে যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে <<<<<<<<<<

>>>>>>>>> তেল বা গ্যাস নয় আগামীতে যুদ্ধ হবে পানি নিয়ে <<<<<<<<<<

সব দেশই পানির ব্যাপারে ব্যাপক সচেতন। শুধু আমাদের দেশই আগেও এই ব্যাপারে নীরব ছিল এখনো আছে,মনে হয় ভবিষ্যৎও থাকবে। কারন আমাগো দেশের সরকারদের ঐ সব নিয়ে ভাবার এবং কাজ করার সময় কই? শুধু ক্ষমতাকে আকড়ে ধরে রেখে দেশের মানুষ মারার চিন্তায়ই তারা সর্বদা ব্যস্ত। কিন্তু এর পানির ব্যাপারে আমাদের উদাসীনতার ফলটা কেমন হবে? কারা সেই ফল ভোগ করবে ?- নিশ্চয়ই আমরা সাধারণ মানুষগণ। ঐ সব সরকারদের আমেরিকা, কানাডা আছে বাড়ী-গাড়ী , এমন দেশে ঐ সময় না থাকলেও ওদের সমস্যা নেই। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কি হবে? আমরা কি পানি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারব? পড়ুন পানি নিয়ে এবারের বিষয়ঃ……………………………………

পানি হচ্ছে মানব জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পৃথিবীতে পানির পরিমাণ ৭১% হলেও তার মাত্র ৩% খাবারের উপযোগী আবার তার বিরাট অংশই ঢাকা আছে এন্টার্কটিকা এবং গ্রীণল্যান্ডে বরফ হিসিবে এবং মাটির নিচে। তাই বিজ্ঞানিরা হিসেব করে দেখিয়েছেন, পৃথিবীর মোট পানির মাত্র ০.০১% খাবারে উপযোগী। তাই,দূষিত পানি খেয়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পানি বাহিত রোগে মারা যাচ্ছে প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ।

রাজনীতিবিদেরা বলে চলেছেন,পানি নিয়ে হবে আগামীর যুদ্ধ। পানি নিয়ে যুদ্ধের পূর্ব ইতিহাসও আছে। সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে যুদ্ধ হয়েছিল নগররাষ্ট্র লাগাস ও উমার মধ্যে ট্রাইগিস ও উইফ্রেটিস নদী নিয়ে। আর আধুনিক কালে মধ্যপ্রাচ্য পানি নিয়ে যুদ্ধ আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল স্যারন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,”১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের প্রধান কারন ছিল পানির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ”। নদী নিয়ে কিছু চলমান বিবাদঃ
১। জর্ডান নদী নিয়েঃ ইসরাইল-ফিলিস্তানের ও জর্ডানের মধ্যে
২। নীলনদ নিয়েঃ সুদান-মিশর, ইথিপিওয়া ও আরো কিছু দেশের মধ্যে
৩। সেনেগাল নদী নিয়েঃ সেনেগাল ও মৌরিতানিয়ার মধ্যে
৪। হেলম্যান্ড নদী নিয়েঃ ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে
৫। হাসবানি নদী নিয়েঃ ইসরাইল-লেবাননের মধ্যে
৬। উইফেটিস নদী নিয়ে তুরস্ক-সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যে
৭। গ্যালিলি সাগর নিয়েঃ সিরিয়া-ইসরাইলের মধ্যে
আর বাংলদেশ-ভারত ও ভারত-চীনের মধ্যে গঙ্গা ও ব্রক্ষপুত্র নদী নিয়ে বিবাদতো লেগেই আছে। এমনকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের নানা কারনের মধ্যে একটি হল সিন্ধু নদীর উপরের দিকের অববাহিকার আধিপত্য।

পানি নিয়ে যুদ্ধের আশঙ্কা কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি নিয়ে এই সঙ্ঘাতের মধ্যে, বাংলাদেশে অবস্থান করছে স্পষ্ট এক সঙ্ঘাতের মধ্যে। স্পষ্টত করে বলতে গেলে, উজানের দেশ ভারত অনেক আগেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পানিকে অস্ত্র হিসিবে ব্যবহার করা শুরু করেছে। এই যুদ্ধে বাংলাদেশ পড়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে এই অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছিল। পরীক্ষামূলকভাবে একটি বাঁধ চালু করার মাধ্যমে। যা আর আজও বন্ধ হয়নি। ফারাক্কা বাঁধ নামে পরিচিত এই বাঁধটি চালু করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক নদী গঙ্গার ওপরে। এই বাঁধ চালুর পর বাংলাদেশের ৪কোটি মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হয়ে চলছে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ৫৪টি নদী ভারত থেকে নেমে এসেছে। এই নদীগুলোর মধ্যে, প্রায় সবগুলো বড় নদীর ওপর ভারত কোনো না কোনো স্থাপনা নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করছে। ফলে,বাংলাদেশের নদীগুলো হয়ে পড়ছে পানিশূন্য। মারা গেছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টির বেশি নদী। বেড়েছে লবণাক্ততা। ফসলের উৎপাদন কমেছে। গঙ্গা বা পদ্মার তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে অন্য জায়গায় বসতি গড়েছে। পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এখন মরুকরণ শুরু হয়েছে। পদ্মায় স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন লবণাক্ততার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। পদ্মার উপকূলের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যয়ের পাশাপাশি পরিবেশ,প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য যেভাবে ধ্বংস হয়েছে তা যেকোনো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় এবং সে প্রভাব কবে শেষ হবে তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারবে না।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পানি সমস্যার দিকগুলো এখনই তুলে ধরতে হবে অন্যথায় এসব সঙ্কট মোকাবেলা করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

দক্ষিণ এশিয়ার পানির যুদ্ধে বাংলাদেশ হয়তো এখন প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদীতে চীনের পক্ষ থেকে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টাও বিরোধ পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে।
তাই পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের নুতন করে ভাবতে হবে। আমাদের নদী গুলো গভীর করে খনন করতে হবে যেন সেগুলোর জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শুষ্ক মৌসুমে যেন সেগুলো থেকে জমিতে সেচ দিতে পারি। এই দেশে যেন আরবের রুক্ষ মরুর সৃষ্টি না হতে পারে। আমাদেরকে অবশ্যই পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পানি নিয়ে উদ্ভুত সকল সমস্যার সমাধানে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে তা না হলে সোনা-রূপা কিংবা হিরা-জহরত নয়, অচিরেই সুন্দর এই বিশ্ব লিপ্ত হবে পানি নিয়ে যুদ্ধে ।
তাই,সবার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে,নিজে পানি অপচয় বন্ধ করুন এবং অন্যদের এই ব্যাপারে সচেতন করুন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s